ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের বিরুদ্ধে রুম তল্লাশির নামে ডাকাতির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:২৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৩
  • ৬১৫ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম:

দক্ষিণ কেরানগঞ্জ থানার পুলিশের বিরুদ্ধে রুম তল্লাশির নামে ডাকাতির অভিযোগ।

সূত্রে জানা যায় দক্ষিণ কেরানগঞ্জ থানার এসআই ইমরান ডিউটি করাকালিন গত ১১-০৮-২০২৩ইং তারিখ গভীর রাতে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদে নিজ ফ্ল্যাটে বসবাসরত আব্বাস নামের এক ব্যক্তির বাসায় পুলিশ তল্লাশির নামে ডাকাতি করেন।

বিস্তারিত ঘটনা উল্লেখ করে আব্বাস নামক ব্যক্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট সচিব, আইজিপি, ঢাকা জেলা রেঞ্জ, ডি.আই.জি, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঐ অভিযোগে আব্বাস ঘটনার বিষয়ে যা উল্লেখ করেন-

আব্বাসের স্ত্রী ও ২সন্তানদের নিয়ে রুমে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ঐদিন দিবাগত রাত ১২-০৮-২০২৩ইং তারিখ আনুমানিক ৩ঘটিকার সময় হঠাৎ রুমে গেটের বাহির হতে কে জেন দরজা জোরে জোরে একাধিক লাথি মারতেছে। দরজার লাজির বিকট আওয়াজ শুনে রুমে থাকা আমার স্ত্রী সন্তানসহ আমি ঘুম থেকে জেগে উঠি। দরজার সামনে যেয়ে আমি ভিতর হতে কে কে বলে আওয়াজ করলে বাহির হতে আগত লোজনজন বলেন তারা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশের কথা শুনে শ্রদ্ধার সাথে আমি দরজাটি খুলি। গেইট খুলতেই ৩/৪জন পুলিশ সদস্য রুমের ভিতরে ডুকে আর ইমরান নামে পুলিশের একজন এস.আই আরো কয়েকজন সিভিল পোষাকে লোক গেইটের বাহিরে দাড়িয়ে থাকে।

রুমে প্রবেশ করার কারণ জানতেই চাইলে পুলিশগণ বলে আমার রুম তল্লাশি করা হবে। এ কথা বলে সবাই মিলে আমার ফ্ল্যাট রুমগুলোর খাটের বিছানা জাজিম, তোষক উল্টিয়ে প্লাটিয়ে কি যেন খোজা-খুজি করে। এরই মধ্যেই তারা আমার স্ত্রীর কাছে আলমারি খোলার চাবি চায়, আমার স্ত্রী চাবি দিতে না চাইলে তখন আমার স্ত্রীকে আগাত পুলিশ সদস্যগণ টানাহেচড়া করে প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায় তার কাছ থেকে আলমারির চাবি নিয়ে, তারা আলমারি খুলে, আলমারীতে থাকা ড্রয়ারগুলো তল্লামির নামে আলমারিতে রাখা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার নগদ ৪লক্ষ টাকা ও চার ভরি ওজনের স্বর্ণালাকার নিয়ে এক পর্যায়ে তারা বাহিরে চলে যায়। আমি টাকা ও স্বর্ণালাংকার নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে এস.আই. ইমরানগণ বাহিরে তাদের সাথে আসা ২ সোর্সের হাতে ২টি ব্যাগএর মুখ খুলে প্যাকেট জাত করা ইয়াবা ট্যাবলেট বের করে বলে শালা ২ ব্যাগে প্রায় ১০-১২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট আছে। এগুলো দিয়ে তোরে মামলা দিব, আর তোর ঘর থেকে নেওয়া স্বর্ণালাকার ও টাকা পয়সা নিয়ে যদি মুখ খুলিস বা আশে-পাশে যদি কাউকে বলিস তাহলে তোর আর রক্ষা হবে না।

তখন আমি বলি আমি একজন মানবাধিকার কর্মী আপনারা আমার সাথে অন্যায় করতেছেন, আমি এ বিষয়ে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানাইবো। তখন এস.আই.ইমরানগংরা বলে শালা বাংলাদেশে পুলিশের উপরে রংবাজ কে আছে? তোর মানবাধিকারগিরি ছুটাইয়া দিমু আর আমাদের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) স্যারই তো আমাদের তোর ঘর তল্লাশি করে এবং তোকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যেতে পাঠাইছে কিন্তু তোকে আমরা দয়া করে ছেড়ে দিয়ে গেলাম।

এর পর আমার বাচ্চাকে হত্যার হুমকি দেয় এবং বাচ্চাদের নানা ধরনের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে যাহা বাচ্চারা এখন স্কুলে যেতেও ভয় পায়। এমতাবস্থায় হঠাৎ করে উক্ত ভবনের উপর থেকে তাদের সাথে আসা অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা কয়েকজন লোক নামিয়ে আনে এবং বলে এরা উপরে তাস দিয়ে জুয়া খেলছিলো এ বলে ঐ লোকগুলোকেও উক্ত পুলিশ সদস্যগণ ধরে নিয়ে যায়।

এরই মধ্যে আশ-পাশের লোকজন ঘটনার খবর পেয়ে এগিয়ে আসলে প্রায় ৩০ মিনিট পর দেখতে পায় পুলিশের গ্রেফতার করে ধরে নিয়ে যাওয়া লোকগুলো চলে আসে। এক পর্যায়ে উক্ত লোকদের জিজ্ঞাস করলে তাহারা অনেকেই বলে যে, পুলিশ রাস্তায় নিয়ে তাদের সাথে থাকা নগদ টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার বিনিময়ে শর্ত সাপেক্ষে তাদের ছেড়ে দেয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের বিরুদ্ধে রুম তল্লাশির নামে ডাকাতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৭:২৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৩

সিএনএম:

দক্ষিণ কেরানগঞ্জ থানার পুলিশের বিরুদ্ধে রুম তল্লাশির নামে ডাকাতির অভিযোগ।

সূত্রে জানা যায় দক্ষিণ কেরানগঞ্জ থানার এসআই ইমরান ডিউটি করাকালিন গত ১১-০৮-২০২৩ইং তারিখ গভীর রাতে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদে নিজ ফ্ল্যাটে বসবাসরত আব্বাস নামের এক ব্যক্তির বাসায় পুলিশ তল্লাশির নামে ডাকাতি করেন।

বিস্তারিত ঘটনা উল্লেখ করে আব্বাস নামক ব্যক্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট সচিব, আইজিপি, ঢাকা জেলা রেঞ্জ, ডি.আই.জি, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঐ অভিযোগে আব্বাস ঘটনার বিষয়ে যা উল্লেখ করেন-

আব্বাসের স্ত্রী ও ২সন্তানদের নিয়ে রুমে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ঐদিন দিবাগত রাত ১২-০৮-২০২৩ইং তারিখ আনুমানিক ৩ঘটিকার সময় হঠাৎ রুমে গেটের বাহির হতে কে জেন দরজা জোরে জোরে একাধিক লাথি মারতেছে। দরজার লাজির বিকট আওয়াজ শুনে রুমে থাকা আমার স্ত্রী সন্তানসহ আমি ঘুম থেকে জেগে উঠি। দরজার সামনে যেয়ে আমি ভিতর হতে কে কে বলে আওয়াজ করলে বাহির হতে আগত লোজনজন বলেন তারা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশের কথা শুনে শ্রদ্ধার সাথে আমি দরজাটি খুলি। গেইট খুলতেই ৩/৪জন পুলিশ সদস্য রুমের ভিতরে ডুকে আর ইমরান নামে পুলিশের একজন এস.আই আরো কয়েকজন সিভিল পোষাকে লোক গেইটের বাহিরে দাড়িয়ে থাকে।

রুমে প্রবেশ করার কারণ জানতেই চাইলে পুলিশগণ বলে আমার রুম তল্লাশি করা হবে। এ কথা বলে সবাই মিলে আমার ফ্ল্যাট রুমগুলোর খাটের বিছানা জাজিম, তোষক উল্টিয়ে প্লাটিয়ে কি যেন খোজা-খুজি করে। এরই মধ্যেই তারা আমার স্ত্রীর কাছে আলমারি খোলার চাবি চায়, আমার স্ত্রী চাবি দিতে না চাইলে তখন আমার স্ত্রীকে আগাত পুলিশ সদস্যগণ টানাহেচড়া করে প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায় তার কাছ থেকে আলমারির চাবি নিয়ে, তারা আলমারি খুলে, আলমারীতে থাকা ড্রয়ারগুলো তল্লামির নামে আলমারিতে রাখা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার নগদ ৪লক্ষ টাকা ও চার ভরি ওজনের স্বর্ণালাকার নিয়ে এক পর্যায়ে তারা বাহিরে চলে যায়। আমি টাকা ও স্বর্ণালাংকার নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে এস.আই. ইমরানগণ বাহিরে তাদের সাথে আসা ২ সোর্সের হাতে ২টি ব্যাগএর মুখ খুলে প্যাকেট জাত করা ইয়াবা ট্যাবলেট বের করে বলে শালা ২ ব্যাগে প্রায় ১০-১২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট আছে। এগুলো দিয়ে তোরে মামলা দিব, আর তোর ঘর থেকে নেওয়া স্বর্ণালাকার ও টাকা পয়সা নিয়ে যদি মুখ খুলিস বা আশে-পাশে যদি কাউকে বলিস তাহলে তোর আর রক্ষা হবে না।

তখন আমি বলি আমি একজন মানবাধিকার কর্মী আপনারা আমার সাথে অন্যায় করতেছেন, আমি এ বিষয়ে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানাইবো। তখন এস.আই.ইমরানগংরা বলে শালা বাংলাদেশে পুলিশের উপরে রংবাজ কে আছে? তোর মানবাধিকারগিরি ছুটাইয়া দিমু আর আমাদের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) স্যারই তো আমাদের তোর ঘর তল্লাশি করে এবং তোকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যেতে পাঠাইছে কিন্তু তোকে আমরা দয়া করে ছেড়ে দিয়ে গেলাম।

এর পর আমার বাচ্চাকে হত্যার হুমকি দেয় এবং বাচ্চাদের নানা ধরনের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে যাহা বাচ্চারা এখন স্কুলে যেতেও ভয় পায়। এমতাবস্থায় হঠাৎ করে উক্ত ভবনের উপর থেকে তাদের সাথে আসা অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা কয়েকজন লোক নামিয়ে আনে এবং বলে এরা উপরে তাস দিয়ে জুয়া খেলছিলো এ বলে ঐ লোকগুলোকেও উক্ত পুলিশ সদস্যগণ ধরে নিয়ে যায়।

এরই মধ্যে আশ-পাশের লোকজন ঘটনার খবর পেয়ে এগিয়ে আসলে প্রায় ৩০ মিনিট পর দেখতে পায় পুলিশের গ্রেফতার করে ধরে নিয়ে যাওয়া লোকগুলো চলে আসে। এক পর্যায়ে উক্ত লোকদের জিজ্ঞাস করলে তাহারা অনেকেই বলে যে, পুলিশ রাস্তায় নিয়ে তাদের সাথে থাকা নগদ টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার বিনিময়ে শর্ত সাপেক্ষে তাদের ছেড়ে দেয়।