ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত কর কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১২:১৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ এপ্রিল ২০২২
  • ২৩৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত কর কাঠামো বাস্তবায়ন ও সুনির্দিষ্ট কর আরোপসহ চার দফা সুপারিশ জানিয়েছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা) এবং বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি।

বুধবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব সুপারিশ জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম আব্দুল্লাহ।

লিখিত বক্তব্যে এস এম আব্দুল্লাহ বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে কাজ করা তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর করারোপের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়। এ বছরও ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ও তামাক কর বিশেষজ্ঞরা তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর আরোপের একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করেছেন এবং তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সেটি সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে। তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পেশ করা প্রস্তাবে প্রচলিত অ্যডভেলোরেম কর আরোপ পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ পদ্ধতির প্রবর্তনসহ সব তামাকজাত দ্রব্যের ওপর মূল্য ও করের পরিমাণ প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসার ব্যয়বহুল তিনটি সেবা হলো— এনজিওগ্রাম, স্টেন্টিং (রিং পরানো) এবং বাইপাস সার্জারি। জানা যায় বাংলাদেশের ২২টি হাসপাতালে এসব চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ রোগী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে এসব চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। এ তিনটি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা এবং খরচের হিসাব কষে দেখা যায়। এ তিনটি হাসপাতালে ওই তিনটি সেবা নিতে মোট ব্যয় হয় ২৮৬.৬১ কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের (৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা) মাত্র ৩.১২ শতাংশ। এই রোগী সংখ্যাকে ৭০ শতাংশ ধরে নিলে দেশের সব হৃদরোগীর একই ধরনের চিকিৎসা নিতে ব্যয় হবে ৪০৯.৪৪ কোটি টাকা। যা ওই অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের ৪.৪৫ শতাংশ মাত্র।

আব্দুল্লাহ আরও বলেন, সরকার চাইলেই দেশের সব জনগণের হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয় তামাক খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের খুব সামান্য অংশ দিয়েই মেটাতে পারে। এভাবে ক্যান্সার, হাইপার টেনশন, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যয় সরকার এই অতিরিক্ত রাজস্ব আয় দিয়েই মেটাতে পারে। তবে এজন্য সরকারকে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর প্রস্তাব অনুসারে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর আরোপ করতে হবে এবং ত্রুটিপূর্ণ আ্যডভেলোরেম কর আরোপ পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ পদ্ধতির প্রবর্তন করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত কর কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ

আপডেট সময় ১২:১৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ এপ্রিল ২০২২

বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত কর কাঠামো বাস্তবায়ন ও সুনির্দিষ্ট কর আরোপসহ চার দফা সুপারিশ জানিয়েছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা) এবং বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি।

বুধবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব সুপারিশ জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম আব্দুল্লাহ।

লিখিত বক্তব্যে এস এম আব্দুল্লাহ বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে কাজ করা তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর করারোপের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়। এ বছরও ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ও তামাক কর বিশেষজ্ঞরা তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর আরোপের একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করেছেন এবং তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সেটি সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে। তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পেশ করা প্রস্তাবে প্রচলিত অ্যডভেলোরেম কর আরোপ পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ পদ্ধতির প্রবর্তনসহ সব তামাকজাত দ্রব্যের ওপর মূল্য ও করের পরিমাণ প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসার ব্যয়বহুল তিনটি সেবা হলো— এনজিওগ্রাম, স্টেন্টিং (রিং পরানো) এবং বাইপাস সার্জারি। জানা যায় বাংলাদেশের ২২টি হাসপাতালে এসব চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ রোগী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে এসব চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। এ তিনটি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা এবং খরচের হিসাব কষে দেখা যায়। এ তিনটি হাসপাতালে ওই তিনটি সেবা নিতে মোট ব্যয় হয় ২৮৬.৬১ কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের (৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা) মাত্র ৩.১২ শতাংশ। এই রোগী সংখ্যাকে ৭০ শতাংশ ধরে নিলে দেশের সব হৃদরোগীর একই ধরনের চিকিৎসা নিতে ব্যয় হবে ৪০৯.৪৪ কোটি টাকা। যা ওই অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের ৪.৪৫ শতাংশ মাত্র।

আব্দুল্লাহ আরও বলেন, সরকার চাইলেই দেশের সব জনগণের হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয় তামাক খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের খুব সামান্য অংশ দিয়েই মেটাতে পারে। এভাবে ক্যান্সার, হাইপার টেনশন, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যয় সরকার এই অতিরিক্ত রাজস্ব আয় দিয়েই মেটাতে পারে। তবে এজন্য সরকারকে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর প্রস্তাব অনুসারে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর আরোপ করতে হবে এবং ত্রুটিপূর্ণ আ্যডভেলোরেম কর আরোপ পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ পদ্ধতির প্রবর্তন করতে হবে।